• সম্পর্ক
    কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

    সম্পর্ক, দহন দাবানল

    সম্পর্ক পূর্ণিমা হক   বাবা বেঁচে থাকতে আমাদের সম্পর্কগুলো ছিল বৃষ্টিস্নাত পুঁইডাঁটার মতো লকলকে সবুজ প্রাণময়, বাবা সযত্নে মাচানে ছড়িয়ে দিতেন সম্পর্কের সবুজ ডালপালাগুলো, একসময় সেগুলো ছড়াতো বাড়ির উঠোন জুড়ে। বাবা ছিলেন সফল মায়া চাষি মাঙ্গলিক আয়োজনে দিনরাত সাজাতেন সম্পর্কের সাতরং, শেখাতেন ভালোবাসার নিবিড়তায় মানুষ হয়ে ওঠার স্বাবলম্বীতা। দুধসাদা পায়রার দল এসে যখন আমাদের মাচানে পুচ্ছ দুলিয়ে বাকম বাকম স্বরে ডেকে উঠতো সম্পর্কের মুখগুলো ভরে যেতো ভালোবাসার অব্যক্ত জলছাপে; আলোক জোছনার মতো সবুজ মায়ার ঘরে নেমে আসতো সাদা সুখের শুভ্রতা ঠিক বুঝে নিতাম সম্পর্কটা এমনই হয়, হতে হয়। বাবাহীন সম্পর্কের মাচান জুড়ে আজ প্রাণহীন পুঁইডাঁটা উঠোন জুড়ে শুকনো পাতার রিক্ততা…

  • অষ্টাদশী-মন
    কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

    অষ্টাদশী মন, মল্লিক বাড়ির চাঁদ

    অষ্টাদশী মন পূর্ণিমা হক   কুড়ি বছর আগের অষ্টাদশী আমি চোখে কাজল এঁকে, মুখে তিব্বত স্নো মেখে বেণী দোলাতে দোলাতে শ্যামলীদির বাগানে যেতাম। বাগানের বকুল, বেলী, কামিনী,হাসনাহেনার মন মাতানো সৌরভ আমায় আচ্ছন্ন করত, মন চাইতো রঙিন প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াই ফুলে ফুলে আকাশের নীলে; ভালোবাসার পংক্তি সাজাতে সাজাতে কখন যেনো পাড়াগাঁয়ের নদী হয়ে যেতাম শান্ত জলে সাঁতার কাটতো ইচ্ছের শাদা শাদা পাতিহাঁস, পানকৌড়ির মতো চুপচুপ ডুব দিতো সত্তার অজানা অনুভূতি; কখনো বা হয়ে যেতাম ফুল পাতার মায়াময় অরণ্য। মনের গোপন গহীনে আজও অষ্টাদশী আমি আর শ্যামলীদির সুবাসিত বাগান। ইদানীং সৌখিন সুখগুলো ঝুলবারান্দায় ফুটতে দেখি কাগজের ফুলের মতো গন্ধহীন,অনুভূতিহীন। নাগরিক কোলাহলে…

  • বৈরী-রাজ্য
    কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

    বৈরী রাজ্য, ফেরা হয় যদি আবার

    বৈরী রাজ্য পূর্ণিমা হক   বিশুদ্ধ চিন্তার সুখবোধ নিয়ে যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন নয়ন গভীর চিন্তায় মগ্ন দহিতা আমি দেখি—- নষ্ট মনের বিষন্ন অবয়বের সুখবোধটুকু ভাসে ভালো থাকার ভেলাহীন আশ্রয়ে ঠিকানার খোঁজে। হৃদয় সমুদ্রের নীল ঢেউ খেলে আদিমতার নগ্ননৃত্যে, ভাঙ্গে চেনা পাড় অদৃশ্যে শব্দহীন কষ্টের স্রোতে, বেদনা সুখের সংশ্রবের সীমানায় রেখা টানে মিশ্রনের রঙ। কাব্য নদের গহীন নীল জলে বৃষ্টি ব্যথার শিলাবৃষ্টির ঘাত, মনোকাশ কাঁদে দহিত যাতনায় বিমুখ বৈরিতায় হারায় কাব্যের ভাষা। দিকভ্রান্ত মনের পরিচিত পথে স্বকরুণ নির্বোধ খেলা চলে নৈসর্গের নিয়ম মেনে। সহস্র নিশিযাপনে এখনো যেখানে কষ্টের রাণী হয়ে বেচেঁ রই আমারই বৈরী রাজ্যে। যেখানে নিয়ত যন্ত্রণার অনুচর্চায় স্বরলিপি লেখা হয়…

  • কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

    ভেতরবাড়ীর মাঠ

    ভেতরবাড়ীর মাঠ পূর্ণিমা হক   সময়ের পাঠে নিজেকে গোটাতে শিখেছি শামুকের মতো স্বভাবজাত প্রত্যয়ে, শিল্পিত হাহাকারে পুড়ে যায় ইদানিং আমার ভেতরবাড়ীর মাঠ,যাপনের সবুজ খেত,জীবন-লাবণি; চেতনার ঘরে নেই মোলায়েম রোদ। কিছু দীর্ঘশ্বাস মানুষের একান্ত কিছু স্মৃতি নিজস্ব, এইযে বেঁচে থাকা,অভিনয় জীবনের এতো এতো এন্টারটেইন গল্পের ভেতর তুমি-আমি’র উপাখ্যান নিজেকে আড়াল করবার এতো যে কৌশল; দিনশেষে দাঁড়াতে ভয় হয় বিদীর্ণ বুকের আয়নায়- অতৃপ্ত আত্মার বিকৃত প্রতিচ্ছবিরা কেবলই তিক্ততার বিষ ছড়ায়। শিল্পিত হাহাকারে পোড়ে আমার ভেতরবাড়ীর মাঠ,ভালবাসার অরণ্য। নির্বাক চোখে দেখি– একরাশ দীর্ঘশ্বাসের দহন আমায় আরো নিঃস্ব করে দেয়!! আরও পড়ুন কবিতা- বিবর্ণ স্বাধীনতা উদাসী মন অষ্টাদশী মন ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব…

  • আমার-জন্য-নয় .
    কবিতা,  পূর্ণিমা হক,  সাহিত্য

    আমার জন্য নয়

    আমার জন্য নয় পূর্ণিমা হক   আহা! হেমন্ত কার্তিকের মাঠভরা ধান শিশির চোয়ানো সোনালী শিষে রাঙা মুনিয়ার ঠোঁট ভরা সুখ; আমার সত্তার ভাঙা আরশিতে ভেসে ওঠে স্বজনের আবছায়া মুখ। বুকের জমিনে উর্বর আদর,মমতার টান লতানো সবুজ সরলতায় বারবার ফিরে যায় উচাটন মন। মরা ঘাস বুকে নিয়ে স্মৃতির পাপিয়া কার্তিকের জ্যোৎস্নায় প্রাণ খুঁটে জল চায়। হিম বাতাসে নীল রঙ প্রজাপতি ভালবাসার রেণু নিয়ে জীবনের বাঁক বদলায়। মন তোলপাড় অমলিন সত্তায় তুফানের মতো হু হু বয়। যাপনের কংক্রিট দেয়াল ছাপিয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকে—– কার্তিকের হলদে মাঠ,সবুজ গ্রাম,সোনালী ধানভরা উঠোন। ঠিক বুঝে নেব আমিও একদিন এ শহর আমার জন্য নয়!!   ঘুরে আসুন…

  • পূর্ণিমা-হক
    ভাটপাড়া,  লেখক পরিচিতি,  সাতবাড়িয়া,  সাহিত্য

    পূর্ণিমা হক

    পূর্ণিমা হক, এ সময়ের একজন জনপ্রিয় কবি হিসেবে কবিতা প্রেমিদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের বাইরেও তাঁর লেখা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। জন্ম: বৈবাহিক সূত্রে স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে।  তিনি ১৯৭৮ সালের ৫ নভেম্বর  রংপুর সদর উপজেলার পুটিমারি গ্রামের  শেখ   পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।  পারিবারিক জীবন: পিতা মৃত আতিয়ার রহমান (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ), মাতা ফজিলাতুন্নেছা, পেশায় গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি প্রথম।  স্বামী কবি মো. ফজলুল হক, পেশায় সরকারি কর্মকর্তা। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী। বড় মেয়ে রাজশাহী নিউ ডিগ্রী সরকারি কলেজ থেকে এবছর (২০২১) এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ…

error: Content is protected !!