• সংসার-ও-আইনজীবী-জীবন
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    সংসার ও আইনজীবী জীবন

    সংসার ও আইনজীবী জীবন তাহমিনা খাতুন   স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই আমাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। পোড়া ভিটায় একখানা ছাপড়া তুলে কোন ক্রমে দিন গুজরান করছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্যরা।আমাদের পরিবার ছিল মূলত কৃষিজীবী। পাক বাহিনীর অত্যাচারের ফলে কৃষি কাজে স্থিত হতে পারছিল না পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার তৃতীয় ভাই মরহুম খন্দকার আবুল খায়ের। আমি সহ চার ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের খরচ যোগানো একজনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণে আমার বিদ্যোৎসাহী ভাই আমাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। স্বাধীনতার পর পরই আমার বিয়ে হয়ে গেল। আমার সৌভাগ্য, আমার ভাইয়ের মতো আমার স্বামীও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। বিয়ের পর আমি ম্যাট্টিক…

  • শ্রদ্ধেয়-শিক্ষকগণ
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ

    শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তাহমিনা খাতুন   কিছুদিন আগে আমার স্কুল জীবনের প্রথম শিক্ষক জনাব নূরুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ পেলাম। প্রথম যেদিন আমার গ্রাম দ্বারিয়াপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ক্লাস করতে গিয়েছিলাম, হয়তো বছর চারেক বয়স হবে, জনাব নুরুল ইসলাম আমাকে ডেকে কাছে বসিয়ে একটা ছড়া পড়ে শুনিয়েছিলেন। ছড়াটি এত বছর পরেও স্পষ্ট মনে আছে, এক যে ছিল ময়না, কত যে তার গয় না, আসমার কিছু দেয় না! আসমা আমার ডাক নাম। পরবর্তীতে শিক্ষক নূরুল ইসলাম সাহেব বৈবাহিক সূত্রে আমার ঘনিষ্ট আত্মীয় হয়েছিলেন। তিনি আমার আপন চাচাতো বোন লিলিকে বিয়ে করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় সবার কথাই আমার মনে আছে! আমি যখন…

  • যেভাব-আইনজীবী-হলাম
    তাহমিনা খাতুন (ভ্রমণ কাহিনী),  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    যেভাব আইনজীবী হলাম

    যেভাব আইনজীবী হলাম তাহমিনা খাতুন   ম্যাট্রিক পাশ করার চৌদ্দ বছর পর সিদ্বেশ্বরী ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হলাম। আমার দুই মেয়ে তখন ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলেকে নার্সারি ক্লাসে ভর্তি করেছি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হলাম। যদিও আইন পড়ার কথা কখনও চিন্তা করি নাই। শিক্ষকতা করা ছিল জীবনের আকাঙ্ক্ষা। যেহেতু দীর্ঘ বিরতির পর লেখা-পড়া শুরু করেছি, সরকারি-বেসরকারি কোন ক্ষেত্রেই চাকুরি করার আমার সুযোগ নেই। সে কারণে কয়েক জনের পরামর্শে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলাম এবং আইন পাশ করলাম। এরপর বার কাউন্সিল পরীক্ষা পাশ করে আইনজীবীর সনদ নিলাম এবং ঢাকা বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হলাম। আদালতে…

  • একাত্তরের-অগ্নিঝরা-দিনগুলি
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  মুক্তিযুদ্ধ,  মুক্তিযুদ্ধে সুজানগর,  সাহিত্য,  সৈয়দপুর (আহম্মদপুর)

    একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি 

    একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি  তাহমিনা খাতুন   ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। সে নির্বাচনে  জাতীয় পরিষদের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ৮১টি আসনে জয়লাভ করে। পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান, ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আনন্দে উৎফুল্ল। সবার আশা এতদিনে বাঙ্গালীর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাঙ্গালীর স্বপ্ন ভঙ্গ হতে দেরি হলো না। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণ রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ…

  • ভাই-বোনদের-কথা
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    ভাই-বোনদের কথা

    ভাই-বোনদের কথা তাহমিনা খাতুন   আমারা মোট এগারো ভাই-বোন। আমাদের সবার বড় ভাই মরহুম খন্দকার আবু তাহের। আমাদের বড় ভাইকে আমরা ‘মিয়াভাই’ বলে সম্বোধন করতাম। মিয়া ভাই বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড় ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। গ্রাম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে, মিয়া ভাই আমাদের গ্রাম থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে ধোবাখোলা করোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন, আমার জন্মেরও আগে! মাত্র ৫ম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া এক বালক নিজ পরিবার ছেড়ে দূর গ্রামের অপরিচিত এক পরিবারে ‘লজিং’ বা ‘জায়গীর’ থেকে লেখা-পড়া চালিয়ে গেলেন। লজিং বা ‘জায়গীর থাকার’ ধারণাটা হয়তো এখন অনেকেরই অপরিচিত। বৃটিশ ভারতের শেষের…

  • আমার-মা
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমার মা

    আমার মা তাহমিনা খাতুন   আমার মায়ের তুলনা একমাত্র আমার মা নিজেই। নিজের মা বলে বলছি না। প্রত্যেকের মা প্রত্যেকের কাছে প্রিয়। কিন্তু কিছু অসাধারণ বৈশিষ্ট ছিল আমার মায়ের। মাকে নিরক্ষরই বলা যায়। কিন্ত নিজের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে মা ছিলেন সদা সতর্ক প্রহরী! সময় মত পড়তে বসলাম কিনা, ঠিক মতো স্কুলে গেলাম কিনা, পরীক্ষার ফলাফল কেমন করছি-প্রতিটি ব্যাপারে মায়ের ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। এছাড়া দেশ বিদেশের বিভিন্ন খবরাখবর নিয়ে মায়ের ছিল অপরিসীম আগ্রহ। আমার ছোট বেলায় আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় গৃহিণীদের দেখেছি ঘরকন্না ছাড়া তাঁদের মধ্যে দেশের বা বহির্বিশ্বের ঘটনা জানার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। আমার মা যেটুকু রিডিং পড়তে পারতেন…

  • আমার-বাবা
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমার বাবা

    আমার বাবা তাহমিনা খাতুন   আমার বাবা মরহুম খন্দকার আবুল কাসেম। আমার বাবার শিশুকালটি শুরু হয়েছিল নিতান্তই দুঃখের মধ্য দিয়ে! অত্যন্ত অল্প বয়সে আমার আব্বা তাঁর ছোট দুই ভাই বোনসহ পিতৃ-মাতৃহীন হন। এতিম তিন শিশু তাঁদের নানী এবং খালাদের স্নেহ-মমতায় লালিত পালিত হন। আমার বাবার কাছে শুনেছি ওনার নানী খালারা আরবী এবং ফারসী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। আব্বা তাঁর নানী খালাদের নিকট আরবী এবং ফারসী ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন, তবে আব্বার বাংলা ভাষাতেও চমৎকার দখল ছিল। তাঁর বাংলা হাতের লেখা এবং ভাষাশৈলী ছিল অত্যন্ত গোছালো এবং পরিপক্ক। আব্বার সুনিপুণ হস্তাক্ষর এবং ভাষাশৈলী ছিল যে কোন উচ্চ শিক্ষিত মানুষকে চমৎকৃত করার মতো। আব্বার…

  • আমাদের-আত্রাই-নদী
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমাদের আত্রাই নদী

    আমাদের আত্রাই নদী তাহমিনা খাতুন   দ্বাড়িয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে আত্রাই নদী। আমাদের ছেলেবেলায় দেখতাম বর্ষাকালে নদীটি কানায় কানায় পানিতে ভরে যেত। অনেক সময় যখন বেশ বড় বন্যা হত, নদীর কূল ছাপিয়ে হাইওয়ের উপর দিয়েও স্রোত বয়ে যেত। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বেশ কিছু দিনের জন্য বর্ষাকালীন ছুটিতে যেতে বাধ্য হত। কারণ বিদ্যালয়ের ঘরটিতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়ত। বর্ষাকালে আত্রাই যখন পানিতে ভরে যেত, তখন কিছু লোক এক ধরনের জাল দিয়ে (যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হত ‘খরা’) ট্যাংরা, পুঁটি, খলশে, ছোট আকারের শোল, বোয়াল, নলা, মৃগেল, টাকিসহ আরও অনেক ধরনের সুস্বাদু মাছ  ধরতেন। আমাদের পাড়ার বাসিন্দারা সহ অনেকেই বর্ষার…

  • আমাদের-দ্বারিয়াপুর-গ্রাম
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম

    আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম তাহমিনা খাতুন   পাবনা জেলার তৎকালীন সুজানগর থানার দ্বারিয়াপুর গ্রামে আমার জন্ম। পাবনা তখন দুই মহকুমা বিশিষ্ট বৃহত্তর জেলা। তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের সতেরটি জেলার মধ্যে দুই মহকুমা বিশিষ্ট একটি জেলা পাবনা। পাবনা সদর ও সিরাজগঞ্জ। মূল পাবনা জেলার সদর অংশে আমার জন্ম। আমাদের গ্রামটির অবস্থান পাবনা শহর থেকে পাবনা-রাজশাহী হাইওয়ের ছাব্বিশ মাইলের  মাইল ফলকের সাথেই। শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার অভাবকে  যদি প্রত্যন্ত গ্রাম বা অজপাড়া গাঁ হিসাবে মূল্যায়ন করতে চাই, তবে দ্বারিয়াপুরকে ‘প্রত্যন্ত গ্রাম’ বা ‘অজপাড়া গাঁ’ বলা যাবে না। আবার শিক্ষা ব্যবস্থা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার দিক থেকে বিবেচনা করলে দ্বারিয়াপুরকে গণ্ডগ্রামও বলা যাবে…

  • ঘুরে-এলাম-পর্তুগ্রাল-শেষ-পর্ব
    তাহমিনা খাতুন (ভ্রমণ কাহিনী),  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    ঘুরে এলাম পর্তুগাল (শেষ পর্ব)

    ঘুরে এলাম পর্তুগাল (শেষ পর্ব) তাহমিনা খাতুন   রাজী রাতেই আমাদের নিয়ে গেল আটলান্টিকের পাড়ে, যেখান থেকে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা তাঁর সমুদ্র যাত্রা শুরু করেছিলেন।ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৭-১৪৯৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ মহাদেশ থেকে এশিয়া মহাদেশে পৌঁছার জল পথ আবিষ্কার করেন। এ কাহিনী ইতিহাস পাঠে আগ্রহী পাঠক মাত্রেরই কম-বেশী জানা। এই জলপথ আবিষ্কার আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে ভারত মহাসাগরের জলপথকে যুক্ত করে। ভাস্কো-ডা-গামা কর্তৃক এই জলপথ আবিষ্কার পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিশাল ঘটনা! এই আবিষ্কার সমুদ্রপথে বহুজাতিক সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের পথ খুলে দেয়। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে পর্তুগীজদের আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়া পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য সৃষ্টিতে সাহায্য করে লিসবনের যে…

  • ঘুরে-এলাম-পর্তুগ্রাল-১ম-পর্ব
    তাহমিনা খাতুন (ভ্রমণ কাহিনী),  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    ঘুরে এলাম পর্তুগাল (১ম পর্ব)

    ঘুরে এলাম পর্তুগাল (১ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন   আমার মত অনেকেরই হয়তো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই পর্তুগীজ জল দস্যুদের কথা জানা থাকবে। ইতিহাসে আগ্রহীদের জানা আছে, আরাকানের মগ আর পর্তুগীজ জল দস্যু মিলে এক সময়ে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বাংলায় ‘হার্মাদ’ শব্দটির সঙ্গেও আমরা অনেকেই পরিচিত। পর্তুগীজ শব্দ ‘আর্মাডা’ থেকেই ’হার্মাদ’ শব্দটির উৎপত্তি। ‘আর্মাডা’ ছিল ১৩০টি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত স্পেনের এক বিশাল নৌ বাহিনী। ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রানী ১ম এলিজাবেথকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে বর্তমান পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে এই জাহাজ যাত্রা শুরু করেছিল- এটাও ইতিহাসের বিষয়। এই মগ আর পর্তুগীজ জলদস্যুদের অত্যাচারের কাহিনী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায়…

  • সীমানা-বিহীন-পৃথিবী
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সীমানা বিহীন পৃথিবী

    সীমানা বিহীন পৃথিবী তাহমিনা খাতুন   বিধাতা যবে গড়িল বসুধা সীমানা নাহি দিয়া, অবাধ আকাশ সীমা নাহি মানে, ভরায় সকল হিয়া! ভোরের সূর্য ছড়ায় উত্তাপ, সকল প্রাণীর তরে আকাশের চাঁদ মধুর কিরণ বিলায় যে অকাতরে! সাগর ছুটিছে, জগত জুড়িয়া, হইয়া আপন হারা, নদীও যে তাই সাগরে মিলায় বিলাইয়া আপন ধারা। সবারে ঢাকিতে স্নেহের চাদরে উঁকি দেয় হিমাচল, তারে আশ্রয়ি ঝর্ণা ধারা ছুটিতেছে অবিরল! সবুজ বনানী সীমা নাহি মানে, নাহি মানে মানচিত্র, সবারেই সে ছায়া দিয়ে যাবে খুঁজিবে না কোন গোত্র! পুষ্প বিলায় রুপের রাশি না মানিয়া দেশ-কাল পাখি যে সদাই শুনাইছে গীত বাধা হীন উচ্ছ্বল! মানুষই টানিল সীমা রেখা উন্মুক্ত…

  • স্বাধীনতা-দিবস
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    স্বাধীনতা দিবস, স্বাধীনতা

    স্বাধীনতা দিবস তাহমিনা খাতুন   ছাব্বিশ মার্চ স্বাধীনতা দিবস আজ! বাংলার মানুষ দিনটি উদযাপিবে কত শত আয়োজন! উদযাপিতে দিনটি আজিকার, পড়িবেই তাহাদের মনে?   একাত্তরের ছাব্বিশ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা দিবস শ্যামল বাংলা দেখিয়াছিল শাসকের সন্ত্রাস!   সন্ত্রাসী শাসকের বাস ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানে! জানিও তাহারা ছিল, শত শত মাইল দূরের অবস্থানে!   আজব এক দেশ ছিল সেই পাকিস্তান জন্মের শুরুও তাহার আছিল বড়ই বেমানান! ছিল নাকো কোনই মিল ভাষা অথবা সংস্কৃতির, শোষণের তরে তাহাদের ছিল শুধুই ফন্দি ফিকির!   লুঠেরার দল লুটিতে লাগিল বাংলার সম্পদ, অভূক্ত রাখিয়া, শিক্ষা না দিয়া, আমাদেরে তারা রাখিল পশ্চাৎপদ!   সাতই মার্চের বজ্রকণ্ঠ দিল স্বাধীনতার ডাক,…

  • কাল-রাত্রির-খাম
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    কাল রাত্রির খাম

    কাল রাত্রির খাম তাহমিনা খাতুন   পঁচিশ মার্চ! এক কাল রাত্রির নাম, যে রাতে পাক সেনা দিল হানা পোড়ালো সহস্র ধাম!   প্রথম মুক্তির ডাকটি আসিল কাল রাত্রির খামে, মুক্তি পাগল জনতা দিল সাড়া সে ডাকে অনেক রক্ত ঘামে!   অসুরের দল ঝাঁপাইয়া পড়িল সর্বশক্তি নিয়ে, দানবের উদ্বাহু সে নৃত্য দেখিল বিশ্ব সবিস্ময়ে!   মেশিন গান আর ট্যাঙ্ক নামিল, দমাইতে নিরস্ত্র জনতারে, আরও কত শত অস্ত্র নামিল বধিতে মানুষ অকাতরে!   সারাটি দিনের ক্লান্তি নাশিতে ঘুমিয়ে ছিল যারা, চির নিদ্রায় তাদেরে শায়িত করিল পাকসেনা, হল যারা দিশেহারা!   লেলিহান শিখা জ্বালাইয়া দিল পোড়াইতে অবোধ শিশু, দয়া মায়াহীন অমানুষের কাছে হারিল…

  • দুর্বিনীত-পুত্রগণের-প্রতি
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি

    দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি তাহমিনা খাতুন   হে পুত্রগণ! পৃথিবীর বলদর্পী পুত্রগণ! হিংস্র, নিষ্ঠুর, অহমিকায় অন্ধ পুত্রগণ! অমিত বিক্রমে! দাম্ভিক পদভারে কাঁপাও মেদিনী! জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে তোমার অবাধ, সদর্প বিচরণ! পুরুষ তুমি! আপন শক্তিমত্ততায় বিভোর! ধরনীর বুকে কেহ নাই সমকক্ষ তোমার! কর তুমি তাই! যাহা সাধ জাগে! কেহ নাহি পারে নিবারিতে তোমায়! হে পুত্রগণ! কেহ নাহি জগতের পরে! দমিতে তোমায়! ক্ষমতা তোমার অসীম! প্রদর্শিছ তাহা অবিরাম! জগত দেখিছে তোমার উল্লম্ফন, প্রতি ক্ষণে, প্রতিটি প্রহরে! ধরনীর বুকে হেরিতে তোমার বিক্রম! দর্শক বানায়েছ নিজ মাতায়! যাহার জঠরে লভেছিলে ঠাঁই নয়টি মাসের তরে! যাহার উদরে লভি আশ্রয়, বাড়িয়াছ দিনে দিনে! যাহার শোনিত নিঙাড়ি গড়িয়াছ…

error: Content is protected !!