ইমরুল কায়েস

  • চাইনিজ-নট-ও-দারোয়ানের-গল্প
    ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    চাইনিজ নট ও দারোয়ানের গল্প

    চাইনিজ নট ও দারোয়ানের গল্প ইমরুল কায়েস   জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে রাস্তায় বিদ্যুৎ খুঁটির সাথে লাগানো একটা সিম্বল চোখে পড়ে। পুরো রাস্তার সব বিদ্যুৎ খুঁটির সাথেই এই লাল রঙের সিম্বল লাগানো। পাশাপাশি দুটি সিম্বল। খাড়া দন্ডের উপর চতুর্ভুজাকৃতির উপরের দিকটা চওড়া। দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মত। রাতের বেলায় সিম্বলগুলো লাল আলোয় আলোকোজ্জ্বল হয়ে থাকে। সারি সারি এরকম আলোকিত লাল সিম্বলগুলো দেখতে অপূর্ব লাগে। মনে হয় একদল প্রজাপতি লাল পেখম মেলে নিশ্চল দাঁড়িয়ে। মনে মনে প্রশ্ন জাগে নিশ্চয়ই এগুলোর কোন গুঢ়ার্থ আছে। সেটা জানতে হবে। একবার ভাবলাম চীন যেহেতু সমাজতান্ত্রিক দেশ সেহেতু একরম লাল রঙের সিম্বল থাকতেই পারে। কারণ কমিউনিস্টদের সিম্বল…

  • কুনমিংয়ের-বৃষ্টি-ও-শৈশবের-বৃষ্টিবিলাস
    ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    কুনমিংয়ের বৃষ্টি ও শৈশবের বৃষ্টিবিলাস

    কুনমিংয়ের বৃষ্টি ও শৈশবের বৃষ্টিবিলাস কয়েকদিন হয়ে গেল সূর্যের দেখা নাই। কুনমিংয়ের আকাশটা মেঘলাই থাকে সারাক্ষণ। পরিবেশটা কেমন বিষন্ন। কিছুক্ষণ পর পর ঝুম ঝুম করে বৃষ্টি পড়ে। কখনো বেডরুমের, কখনো ড্রয়িংরুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখি। এটাকে জানালা বললে ভুল হবে। ড্রয়িং রুমের পশ্চিম পাশের পুরো একটা দেয়াল স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে তৈরি। কাঁচের দেয়ালে ছোট্ট একটা জানালা। মাঝেমাঝে খুলে দিলে বাইরের হাল্কা শীতল বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। বেডরুমেরও একই অবস্থা। দক্ষিণ পাশের পুরো অর্ধেক দেয়াল স্বচ্ছ কাঁচের। এর একপাশে ছোট্ট একটা জানালা। দক্ষিণা জানালা। তবে বৃষ্টি দেখার জন্য দক্ষিণা জানালা খোলার দরকার পড়ে না। পর্দা সরালেই বাহিরটা দেখা যায়। রুমের…

  • ফেসবুক-মেসেঞ্জারবিহীন-কোরেন্টাইন
    ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    ফেসবুক-মেসেঞ্জারবিহীন কোয়ারেন্টাইন

    ফেসবুক-মেসেঞ্জারবিহীন কোয়ারেন্টাইন ইমরুল কায়েস   প্রতিদিনই দেশে থাকা স্ত্রী সন্তানদের সাথে কয়েক দফা কথা হয়। মুশকিল হল ছোট ছেলেকে নিয়ে। ওর বয়স সবে দুই বছর আট মাস। ফোন দিলে কিছু কিছু সময় আর কাউকে কথা বলতে দেয় না। এমনকি বড় ছেলেকেও নয়। ও নিজেও এখনো সব কথা বলতে পারে না। শুধু বলবে, অ্যালো, বাবা কি কল (কর)? আবার কল কাটতেও দেবে না। ভিডিও কল দিয়ে সামনে বসে থাকতে হবে। আর মাঝে মাঝে অ্যালো, বাবা কি কল বলবে। ভাগ্যিস দেশ থেকে আসার আগে স্ত্রীর মোবাইলে একটা উইচ্যাট একাউন্ট খুলে দিয়েছিলাম। কোন কারণে অন্যান্য মাধ্যমে কথা না বলতে পারলেও যাতে উইচ্যাটের মাধ্যমে…

  • চৈনিক-দাওয়াই-বাওহে-ওয়ান
    ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    চৈনিক দাওয়াই বাওহে ওয়ান

    চৈনিক দাওয়াই বাওহে ওয়ান: জাদুকরী এক পথ্য চীনের খাবার দাবার নিয়ে আমাদের দেশে নানা কথা প্রচলিত। প্রতিবারই চীনে আসলে পরিচিতজনরা জিজ্ঞেস করে কি খাচ্ছি, খেতে পারছি কিনা ইত্যাদি। খাবার দাবার নিয়ে আমার কখনো তেমন কোন সমস্যা হয় না। আমি শুধু বলে দেই হালাল ফুড দিতে। সাথে ফলমূল। চীনের প্রায় সব শহরে মুসলিম রেস্টুরেন্ট আছে। এসব রেস্টুরেন্টে সব হালাল ফুড। এমনকি চীনাদের বললেও ওরা ব্যবস্থা করে দেয়। চীনাদের খাবারে যারা শুধু পোকামাকড় খোঁজে তাদের জানা দরকার এ দেশে বিভিন্ন পদের মাছ, গরু, হাঁস, মুরগী, পাখির মাংস সমান জনপ্রিয়। বেইজিং ডাকের কথা তো সর্বজন বিদিত। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও বেইজিং ডাক অর্থাৎ বেইজিংয়ের…

  • ইয়ানছি-হোটেল-ও-করোনা-সতর্কতা
    ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    ইয়ানছি হোটেল ও করোনা সতর্কতা

    ইয়ানছি হোটেল ও করোনা সতর্কতা ইমরুল কায়েস   চীনের কুনমিংকে বলা হয় বসন্তের নগরী। বছরের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে বসন্তকালের আধিপত্য। আবহাওয়া খুবই সুন্দর। খানিকটা শীতলতার পরশ বোলানো। কিন্তু একেবারে শীতার্ত নয়। এর আগেও বেইজিং যেতে কুনমিং হয়ে যাওয়া পড়েছে। কিন্তু থাকার সুযোগ হয়নি। কুনমিং হল চীনের গেটওয়ে। এই শহরকে ফুলের শহরও বলা হয়। কারণ পুরো শহর জুড়ে রয়েছে ফুলের ছড়াছড়ি। পাহাড়ের পাদদেশে মনোরম নয়নাভিরাম একটি শহর। এবার এই শহরে বেশ কয়েকদিন থাকতে হবে। রাতের বেলা রাস্তার আলোকবাতি, স্বল্প গাড়ি-ঘোড়া আর আশপাশের আলোকোজ্জ্বল ভবন ছাড়া কিছু চোখে পড়ছে না। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আধা ঘণ্টার ড্রাইভ।…

  • ইমরুল কায়েস,  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    আমি ভিআইপি?

    আমি ভিআইপি? ইমরুল কায়েস   ১৩ জুন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। এমন সময় আমাদের বহনকারী চায়নাগামী বিমানটি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড়লো। চায়না ইস্টার্নের বোয়িং বিমান। যাত্রী প্রায় আড়াইশ’র মত, ২৪২ জন। মজার ব্যাপার হল পুরো ফ্লাইটে বিদেশি আমি একাই। বাকী সবাই চীনা। এদের মধ্যে একজন আমার চেনা জানা। আর কাউকে চিনি না। ও কাজ করে ঢাকার চায়না দূতাবাসে। নাম শি শাওহুয়া। ইংরেজি নাম রুবি। চাইনিজ নাম উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য। এজন্য দেশের বাইরে কাজ করা চীনাদের সবার একটা করে ইংরেজি অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় নাম থাকে। কাজের সুবিধার জন্যই এই ব্যবস্থা তাদের। বাকী যাত্রীরা কাজ করে বাংলাদেশের মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন চাইনিজ…

error: Content is protected !!