• সীমানা-বিহীন-পৃথিবী
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সীমানা বিহীন পৃথিবী

    সীমানা বিহীন পৃথিবী তাহমিনা খাতুন   বিধাতা যবে গড়িল বসুধা সীমানা নাহি দিয়া, অবাধ আকাশ সীমা নাহি মানে, ভরায় সকল হিয়া! ভোরের সূর্য ছড়ায় উত্তাপ, সকল প্রাণীর তরে আকাশের চাঁদ মধুর কিরণ বিলায় যে অকাতরে! সাগর ছুটিছে, জগত জুড়িয়া, হইয়া আপন হারা, নদীও যে তাই সাগরে মিলায় বিলাইয়া আপন ধারা। সবারে ঢাকিতে স্নেহের চাদরে উঁকি দেয় হিমাচল, তারে আশ্রয়ি ঝর্ণা ধারা ছুটিতেছে অবিরল! সবুজ বনানী সীমা নাহি মানে, নাহি মানে মানচিত্র, সবারেই সে ছায়া দিয়ে যাবে খুঁজিবে না কোন গোত্র! পুষ্প বিলায় রুপের রাশি না মানিয়া দেশ-কাল পাখি যে সদাই শুনাইছে গীত বাধা হীন উচ্ছ্বল! মানুষই টানিল সীমা রেখা উন্মুক্ত…

  • স্বাধীনতা-দিবস
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    স্বাধীনতা দিবস, স্বাধীনতা

    স্বাধীনতা দিবস তাহমিনা খাতুন   ছাব্বিশ মার্চ স্বাধীনতা দিবস আজ! বাংলার মানুষ দিনটি উদযাপিবে কত শত আয়োজন! উদযাপিতে দিনটি আজিকার, পড়িবেই তাহাদের মনে?   একাত্তরের ছাব্বিশ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা দিবস শ্যামল বাংলা দেখিয়াছিল শাসকের সন্ত্রাস!   সন্ত্রাসী শাসকের বাস ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানে! জানিও তাহারা ছিল, শত শত মাইল দূরের অবস্থানে!   আজব এক দেশ ছিল সেই পাকিস্তান জন্মের শুরুও তাহার আছিল বড়ই বেমানান! ছিল নাকো কোনই মিল ভাষা অথবা সংস্কৃতির, শোষণের তরে তাহাদের ছিল শুধুই ফন্দি ফিকির!   লুঠেরার দল লুটিতে লাগিল বাংলার সম্পদ, অভূক্ত রাখিয়া, শিক্ষা না দিয়া, আমাদেরে তারা রাখিল পশ্চাৎপদ!   সাতই মার্চের বজ্রকণ্ঠ দিল স্বাধীনতার ডাক,…

  • কাল-রাত্রির-খাম
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    কাল রাত্রির খাম

    কাল রাত্রির খাম তাহমিনা খাতুন   পঁচিশ মার্চ! এক কাল রাত্রির নাম, যে রাতে পাক সেনা দিল হানা পোড়ালো সহস্র ধাম!   প্রথম মুক্তির ডাকটি আসিল কাল রাত্রির খামে, মুক্তি পাগল জনতা দিল সাড়া সে ডাকে অনেক রক্ত ঘামে!   অসুরের দল ঝাঁপাইয়া পড়িল সর্বশক্তি নিয়ে, দানবের উদ্বাহু সে নৃত্য দেখিল বিশ্ব সবিস্ময়ে!   মেশিন গান আর ট্যাঙ্ক নামিল, দমাইতে নিরস্ত্র জনতারে, আরও কত শত অস্ত্র নামিল বধিতে মানুষ অকাতরে!   সারাটি দিনের ক্লান্তি নাশিতে ঘুমিয়ে ছিল যারা, চির নিদ্রায় তাদেরে শায়িত করিল পাকসেনা, হল যারা দিশেহারা!   লেলিহান শিখা জ্বালাইয়া দিল পোড়াইতে অবোধ শিশু, দয়া মায়াহীন অমানুষের কাছে হারিল…

  • দুর্বিনীত-পুত্রগণের-প্রতি
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি

    দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি তাহমিনা খাতুন   হে পুত্রগণ! পৃথিবীর বলদর্পী পুত্রগণ! হিংস্র, নিষ্ঠুর, অহমিকায় অন্ধ পুত্রগণ! অমিত বিক্রমে! দাম্ভিক পদভারে কাঁপাও মেদিনী! জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে তোমার অবাধ, সদর্প বিচরণ! পুরুষ তুমি! আপন শক্তিমত্ততায় বিভোর! ধরনীর বুকে কেহ নাই সমকক্ষ তোমার! কর তুমি তাই! যাহা সাধ জাগে! কেহ নাহি পারে নিবারিতে তোমায়! হে পুত্রগণ! কেহ নাহি জগতের পরে! দমিতে তোমায়! ক্ষমতা তোমার অসীম! প্রদর্শিছ তাহা অবিরাম! জগত দেখিছে তোমার উল্লম্ফন, প্রতি ক্ষণে, প্রতিটি প্রহরে! ধরনীর বুকে হেরিতে তোমার বিক্রম! দর্শক বানায়েছ নিজ মাতায়! যাহার জঠরে লভেছিলে ঠাঁই নয়টি মাসের তরে! যাহার উদরে লভি আশ্রয়, বাড়িয়াছ দিনে দিনে! যাহার শোনিত নিঙাড়ি গড়িয়াছ…

  • কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    ঢাকা শহর

    ঢাকা শহর তাহমিনা খাতুন   অনেক বছর আগে! নিয়াছিনু ঠাঁই এই শহরে, অনেক ভালোবেসে! দেখেছিনু সমাহিত, শান্ত রূপটি তাহার! সে রূপে মুগ্ধ হয়েছিনু, মন হয়েছিল বিভোর আমার! গভীর এক ভাল লাগায় আত্মহারা হয়েছিল হৃদয়ের কূল! শান্ত, স্নিগ্ধ পল্লী শ্রী বিরাজিত, ভাল লাগার শহরে! মন ভরিয়া দিত আম, জাম আর কাঁঠালের ছায়া! ভোরের পাখির কাকলী কুজন, কেবলই বাড়াতো মায়া! পথ চলতি কুড়ায়েছি ঝরা বকুল, হাতে নিয়ে লভিয়াছি স্নিগ্ধ সুরভী তাহার! হেরিতাম বাদল দিনে কেতকি, কদম মোর বাতায়নে বসি সাঁঝের মায়ায় ডাহুকের ডাক কানেতে আসিত ভাসি! কোথায় হারালো আমার সেই ভালোবাসার শহর? বুঝি সে পথ হারায়েছে উড়াল সড়কে! আকাশ ছুঁয়েছে অট্টালিকার সারি!…

  • শ্রদ্ধাঞ্জলি
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    শ্রদ্ধাঞ্জলি, সময় কি হইবে তোমার

    শ্রদ্ধাঞ্জলি তাহমিনা খাতুন   এই দিনে, আজিকার এই ক্ষণে, অনেক বছর আগে! তোমরা করে গেছ আত্মদান! ছিনে এনেছিলে ভাষার তরে অযুত সন্মান! সহনিকো তোমরা মায়ের ভাষার এতটুকু অপমান, অকাতরে রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল তাই আপন প্রাণ! শাসকের রক্তচক্ষু তোমাদের কাছে, পায়নিকো কোন দাম! জগত তুলেছে অতুল শিখরে, তোমাদের সব নাম!   আপন বুকের শোণিতে রাঙায়েছো কঠিন সে রাজপথ, আজও তাই মোরা স্মরণ করি যে, সালাম রফিক বরকত! ভাষার তরে তে আর কোন জাতি, দেয়নি বুকের খুন, তোমাদের সে খুনে বুঝি তাই, রেঙ্গে উঠেছিল আটই ফাল্গুন! শফিক, শফিউর, ওহিউল্লাহ আরও কত, অজানা নাম! তোমাদের তরে আজিও বাঙ্গালী তাই, জানায় লাখো সালাম!  …

  • গন্ধরাজ
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    গন্ধরাজ, গোলাপ ফুল

    গন্ধরাজ তাহমিনা খাতুন   গন্ধরাজ! সুবাসের রাজা তুমি, এক অপরুপ ফুল, স্নিগ্ধ, পবিত্র রুপটি তোমার, নাহি যার তুল! বর্ষার বারি ধারা যবে, পড়ে ঝরি অবিরল তোমার শাখায়! সবুজে, সাদায় গলাগলি করি ওঠো জাগি অসীম উচ্ছলতায়! বর্ষার ধারা সনে মিতালী তোমার, বিমোহিত হয়ে হেরি, তব পুষ্পের বাহার! শোভা সুষমা আর সুরভিত আবেশ, দেখা শেষ হয় তবু, না যেন ফুরায় ভাল লাগার রেশ! জগত জুড়িয়া এমন রুপ বুঝি, কেহ খুঁজিয়া নাহি পায়, ডুবিয়া থাকিতে চায় মন, তোমার সুবাস ভরা স্বপ্ন মদিরায়! তোমার সৌরভ, সুধায় ভরুক বসুন্ধরা, দূর হয়ে যাক, সব দুঃখ জ্বরা! চারিদিকে ছড়াও তব রুপের ডালি, দূর হয়ে যাক সব মনের…

  • তিতাস-নদীর-পাড়ে
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    তিতাস নদীর পাড়ে

    তিতাস নদীর পাড়ে তাহমিনা খাতুন   তিতাসের পাড়ে কাটায়েছি, খানিক সময়। সবটুকু ভাল লাগায় জুড়ালো হৃদয়! আদিগন্ত বিস্তারি সবুজ প্রান্তর ভরিয়া দিল মনটি আমার! অন্তর ছুঁয়েছিল সর্ষে ফুলে ছাওয়া হলুদ মাঠখানি! দোলা দিয়াছিল তিতাসের বুক চিরে ছুটে যাওয়া ছোট ছোট তরীগুলি! শ্বেত, শুভ্র ঢেউগুলি আছড়িয়া পড়ে কূলেতে তাহার! যেন দেয় হাতছানি! নিয়ে যেতে চায় বুঝি! কোন দূর অজানায়। তিতাসের বুকে ঝাঁপ দেয় গাঙচিল! উড়ে যায় পলকে! ঠোঁটে ধরা তার রুপালী কোন মাছ! শুভ্র, বাদামী রঙের পাতি হাঁস! করিতেছে জল কেলী, কেহ বা সবে সাঙ্গ করি সন্তরন, দিতেছে বুঝি দিবা নিদ্রা পরম পুলকে! আপন পালকে লুকায়ে হলুদ ঠোঁট খানি তার! সাধু…

error: Content is protected !!