সাংবাদিক-আনোয়ারুল-হক
কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  ভাষা সৈনিক

সাংবাদিক আনোয়ারুল হক

সাংবাদিক আনোয়ারুল হক (১৯৩৭-২০১৯ খ্রি.) ছিলেন  পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রবীণ সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক।

জন্ম: সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক  আনোয়ারুল হক ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন: আনোয়ারুল হকের পিতার নাম তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা আমিরুন নেছা। সাবেক ছাত্রনেতা নজমুল হক নান্নু এবং পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু তাঁর ছোট দুই ভাই । তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। ছেলে সুশোভন হক টুটুল পাবনার সাবেক  ক্রিকেটার।

শিক্ষা জীবন: আনোয়ারুল হক নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পাবনার আর এম একাডেমী থেকে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর পাবনা কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন।

আরও পড়ুন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কমরেড প্রসাদ রায়

তিনি নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে নূরুল আমীন বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন। ১৯৬৭ খিস্টাব্দে ভুট্টা আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে বিনা বিচারে প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেন।

কর্ম জীবন: পাবনা জেলায় সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচনে যাঁদের নাম স্মরণীয় বরণীয় হিসেবে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে আনোয়ারুল হক ছিলেন অন্যতম। একজন ব্যাংকার হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন বহুকাল।

তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ইউনাইটেড ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে  কর্মময় জীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার হিসেবে  অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের  পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সরকার ইত্তেফাক বন্ধ করে দিলে কিছুদিন দৈনিক আজাদ ও দৈনিক সংবাদে কাজ করেন। পরে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে আবার সৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন। তিনি অর্ধ-শতাব্দীর অধিক সময় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন সন্টু

সম্মাননা:  ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ২ মে পাবনা প্রেসক্লাবের ৫৬ বছর পূর্তিতে প্রবীণ সাংবাদিক রনেশ মৈত্র ও আনোয়ারুল হককে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা-সম্মাননা দেয়া হয়। ১৯৬১ সালের ১ মে প্রতিষ্ঠিত পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন আনোয়ারুল হক। প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার বছর ৮-৯ মে পাবনায় অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সম্মেলন। সেই সভা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সমিতি, যা বর্তমানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি হিসেবে পরিচিত। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেদিন সংবাদপত্রে মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশার স্বীকৃতি ঘটেছিল। যাদের হাত ধরে এই স্বীকৃতি, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আনোয়ারুল হক।

মৃত্যু: ভাষা সৈনিক আনোয়ারুল হ বার্ধক্য জনিত কারণে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন।  তিনি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি, বুধবার রাত ১টা ৫ মিনিটে পাবনা শহরের শালগাড়িয়া মহল্লার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে পাবনা সদর আরিফপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

 

তথ্যসূত্র:

১। পাবনায় ভাষা আন্দোলন, ড. এম আবদুল আলীম

২। দৈনিক ইত্তেফাক 

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!