সরদার-জয়েনউদ্দীন-৩য়-পর্ব
কামারহাট,  নাজিরগঞ্জ,  লেখক পরিচিতি,  সাহিত্য

সরদার জয়েনউদ্দীন (৩য় পর্ব)

সরদার জয়েনউদ্দীন (৩য় পর্ব)

সরদার জয়েনউদ্দীনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ষোলোটি। এ ছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা পত্রপত্রিকায় তাঁর  ছড়া ও কবিতা, এমনকি ছোট গল্প ।

গ্রন্থ তালিকা:

গল্পগ্রন্থ:

  • নয়ান ঢুলী (১৯৫২ খ্রি.)
  • বীর কণ্ঠীর বিয়ে (১৯৫৫ খ্রি.)
  • খরস্রোত (১৯৫৫ খ্রি.)
  • বেলা ব্যানার্জীর প্রেম (১৯৬৮ খ্রি.)
  • অষ্টপ্রহর (১৯৭৩ খ্রি.)

উপন্যাস:

  • নীল রং রক্ত (১৯৫৬ খ্রি.)
  • পান্নামতি (১৯৬৪ খ্রি.)
  • আদিগন্ত (১৯৬৫ খ্রি.)
  • অনেক সূর্যের আশা (১৯৬৬ খ্রি.)
  • বেগম শেফালী মির্জা (১৯৬৮ খ্রি.)
  • বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ (১৯৭৫ খ্রি.)

শিশুসাহিত্য:

  • উল্টো রাজার দেশ
  • আমরা তোমাদের ভুলব না
  • অবাক অভিযান

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭ খ্রি.)
  • আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭ খ্রি.)
  • সাহিত্যে একুশে পদক (১৯৯৪ খ্রি., মরণোত্তর)

মৃত্যু: ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর সরদার জয়েনউদ্দীন  ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

আমাদের দায়বদ্ধতা: সরদার জয়েনউদ্দীন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার মতো লেখক নন। তিনি আমাদের সাহিত্যের পথিকৃৎ লেখকদের একজন। এদেশের কথাসাহিত্যে মাটি ও মানুষের কথা সরলভাবে সঞ্চার করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন, থাকবেন শতবর্ষ পেরিয়েও।

আরও পড়ুন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের ভাঙন-সামাজিক শোষণ, কখনো প্রতিবাদ বা বাঁচার সংগ্রাম এসব বিষয় নিয়ে সাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীনের গল্পের গল্পজগৎ। সেই গল্পজগতের একমাত্র শাসক তিনি। জয়েনউদ্দীন বাংলা সাহিত্যাকাশে এক অনন্য প্রতিভা বলতেই হয়। তাঁর গল্পের ভাষা-নির্মাণ, বাক্যশৈলী ও গল্পের উপস্থাপনায় এ-কথা স্বীকৃত যে, গ্রামীণ গল্প বাংলা সাহিত্যের প্রাণ। কারণ গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশের বিশাল জনসাধারণের শেকড় ওই গ্রামেই রোপিত। তাই গ্রামই হয়ে ওঠে প্রাণ। সে কারণেই তাঁর গল্পের বিশাল একটা অংশে নিহিত যে গ্রামীণ জীবনধারা, তা অস্বীকার করা যায় না। গল্প দিয়ে সাহিত্যাকাশে আগমন এবং গল্পেই ঘটেছে সমধিক প্রসার বা উত্তরণ। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি বিপুলসংখ্যক গল্প নির্মাণে নিমগ্ন থেকেছেন। ছোটগল্প ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি উচ্চমানের উপন্যাস রচনা করেছেন। সেই উপন্যাসেও জীবনকে গভীরভাবে নিরূপণ করেছেন। সাহিত্যকর্মে তাঁর মানবিক গুণাবলি তাঁকে একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের মর্যাদা দান করেছে। এমনই একজন বিস্মৃতিপ্রায় সাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীন।

আজ আমাদের বাংলা সাহিত্যাকাশে তাঁর মতো গাল্পিককে বারবার তুলে ধরতে হবে। তাঁর বিশাল সাহিত্যভারের কাছে আমরা কতখানি ঋণী, হয়তো সেটা কোনো প্রশ্ন নয়, তারপরও তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন কারিগর। কারণ আমাদের শেকড় যে কতটা গভীরে, তারই ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর গল্পে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ যখন কলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্যে ডুবে আছে আপাদমস্তক, আর ঢাকাকেন্দ্রিক বা বাংলাদেশের সাহিত্য যখন মিলন-হুমায়ূন, আনিসুর-ইকবালের দখলে, মানুষ তাঁদের নিয়েই ব্যস্ত, তখন সরদারের নাম কেইবা নেবে, কে পরিচয় করিয়ে দেবে সরদার জয়েনউদ্দীনের সাহিত্যের সঙ্গে। বড় টানাপড়েন সময়। দুর্ভাগ্য আমাদের ললাটে। 

আরও পড়ুন সরদার জয়েনউদ্দীন
১ম পর্ব
২য় পর্ব
৪র্থ পর্ব
৫ম পর্ব

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

সরদার জয়েনউদ্দীন (৩য় পর্ব)

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!