ভেজালের-সমারোহে
কবিতা,  জহুরা ইরা,  সাহিত্য

ভেজালের সমারোহে,স্মৃতি অনুভবে উজ্জ্বল দিন

ভেজালের সমারোহে
জহুরা ইরা

 

পরতে পরতে জড়িত ভেজাল, ভেজালের নেই শেষ,
ভেজাল মুক্ত দেখার ইচ্ছে আমার বাংলাদেশ।।
উক্তিতে ভেজাল যুক্তিতে ভেজাল বক্তৃতা কোন ছাড়,
পরীক্ষায় ভেজাল নিরীক্ষায় ভেজাল ভাঙল শির দাঁড় ।।

আশায় ভেজাল ভাষায় ভেজাল
বিব্রত মানব জাতি
জলেও ভেজাল তেলেও ভেজাল নিভবে জীবন বাতি ।।
শিক্ষায় ভেজাল দীক্ষায় ভেজাল ভেজাল জীবন গড়ায়
কইতে ভেজাল সইতে ভেজাল ভেজাল জীবন ধারায়।।
রক্তে ভেজাল ভক্তে ভেজাল ভেজাল অস্তি মজ্জায়
তথ্যে ভেজাল পথ্যে ভেজাল ভেজাল ঔষধ চিকিৎসায়।।
অর্থে ভেজাল শর্তে ভেজাল ভেজাল চুক্তি নামায়
মন্ত্রে ভেজাল যন্ত্রে ভেজাল জীবন বাঁচা দায়।।
খাদ্যে ভেজাল বাদ্যে ভেজাল ভেজাল দেশ গড়ায়
চাওয়ায় ভেজাল পাওয়ায় ভেজাল ভেজাল ভালোবাসায়।।
ধর্মে ভেজাল কর্মে ভেজাল ভেজাল আত্মবিশ্বাসে
চলায় ভেজাল বলায় ভেজাল ভেজাল প্রতি নিঃশ্বাসে।।
কাঁচায় ভেজাল পাকায় ভেজাল ভেজাল প্রতি পরতে
ঝি-এ ভেজাল পুত্রে ভেজাল আছি এ কোন জগতে ।।
পরতে পরতে জড়ায়ে ভেজাল ভেজাল ছোঁয়নি “মা” কে
ভেজালের সমারোহে খাঁটি শুধু শিশুর “মা” ডাকে।।

আরও পড়ুন জহুরা ইরার কবিতা-
নারী
২১ নভেম্বর -স্মৃতি অনুভবে উজ্জ্বল দিন

সে-ই দিন অবিকল মনে আছে আজো।
সেদিন, স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল আলো ঝলমল দিন
শীতের চাদরে জড়িয়ে রাত্রি এলো হেমন্তের স্তব্ধতা নিয়ে।
তবু চেতনার আভা ছড়িয়ে এসেছিলে তুমি মানব শিশু
যেমন করে গাঢ় অন্ধকার থেকে আমরা এসেছি পৃথিবীতে , ছায়াচ্ছন্ন দৃষ্টি নিয়ে।
ব্যাথা, রক্ত স্রোত, ভয় পারেনিকো বাধা দিতে,
মানুষের নব নব বাগানের নব নব মালিক হতে।
সেদিন শিশির ঝরা শুভ্র ভোর তোমাকে বরণ করেছিলো
উদীয়মান সূর্য সেও তোমাকে বরণ করেছিলো,
বরণ করেছিলো নির্ঝর,নদী,বালিয়াড়ি,মরুর উঠোন
বিটপী অটোবীও তোমাকে সেদিন করেছিলো বরণ
বরণ করেছিলো নিগৃহীত বহ্নিবিক্ষুদ্ধ মানুষের কথা ভেবে
ক্ষমতাময় ভুলের গহ্বর থেকে জন্ম নেওয়া অবাধ হিংসা,
লালসা,অন্তহীন চাওয়া সময়ের ঢেউ গুলোকে আটকে
মানুষের আস্থার চাহিদায় প্রিয়তর হতে।
অধঃপতন উল্লোল থেকে মানুষের পরিচয়ে রেখে যেতে
মাঠের ফসল ছুঁয়ে যাওয়া সবুজ বাতাস,

আশির্বাদের চিঠি পাঠাবে ফসলের বুকে ভরে
বিশ্বাস ভ্রষ্ট হৃদয় নিয়ে বয়ে চলা জীবন একাগ্রতায় হবে পূর্ণ।
নিয়ত মৃত্যুর কবল থেকে বেরিয়ে জীবনের ভাবনায়
প্রসারিত হবে আত্মার সাড়া,
ব্যর্থ দীর্ঘশ্বাস হবে বজ্রাভ আর ফুটন্ত ফুলের সুবাসে মোড়া।
শেষ প্রহরের শশী নয়,নয় তুমি নবীন প্রভাতের ঊষা,
তুমি উল্লাসে ফোটা হৃদস্পন্দন,জাগায় প্রাণের আশা।।

আরও পড়ুন কবিতা-
রঙছবি
বাংলার কৃষক
দেশের মটি
বেদনার দান

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

জহুরা ইরা বাল্যকাল থেকে কবিতা ও গল্প লিখে চলছেন। প্রকাশনা-কাব্যগ্রন্থ: স্মৃতির দরজায়, ঝরাপাতা, নিমগ্ন ভালোবাসার বৃক্ষ; উপন্যাস: সায়াহ্ন সমীরণ। তিনি ১৯৬২ সালের ২৪ মে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!