বৃষ্টিভেজা-গোলাপের-ঘ্রাণ
গল্প,  শফিক নহোর,  সাহিত্য

বৃষ্টিভেজা গোলাপের ঘ্রাণ

বৃষ্টিভেজা গোলাপের ঘ্রাণ

শফিক নহোর

ক.

সকালে বাড়ি থেকে বের হই। উদ্দেশ্য ঢাকা যাবো। কাশিনাথপুর এসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হল। এই দাঁড়িয়ে থাকাটা অবশ্য গাড়ির জন্য। টিকিট কাউন্টার থেকে জানালো, গাড়ি চিনাখড়া পর্যন্ত এসে চাকা পাংচার হয়েছে। নতুন টায়ার লাগিয়ে আসতে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট সময় লাগবে। কথা শেষ না হতেই খুব সুন্দরী একটা মেয়ে পাশে এসে দাঁড়াল। যেন বৃষ্টি ভেজা গোলাপের ঘ্রাণ নাকে ঢুকল। আমি মেয়েটির দিকে তাকাতেই তাচ্ছিল্যের মনোভাব নিয়ে আমার দিকে তাকালো। সেটা খুব সহজেই বুঝতে পারলাম। তারপর নিজেকে স্মার্টভাবে প্রেজেন্টেশন করবার জন্য মাথার চুল হাত দিয়ে ঠিকঠাক করার চেষ্টা করছি। আরেকটু ভাব নিতে ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল রুমের পাশে বসা হকারের কাছ থেকে একটা পত্রিকা কিনে নিলাম। পাশের দোকান থেকে একটা পানির বোতল নিয়ে ভাবগাম্ভীর্য বাড়িয়ে আবারও টিকিট কাউন্টারের ম্যানেজারকে বললাম,

– আপনাদের সেবা তো আগে খুব ভালো ছিল। তা এখন এতটা খারাপ কেন?

আগে জানলে আসতাম না!

ভদ্রলোক আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারল না। এই সুযোগে আমি আবারও ভাব নেবার চেষ্টা করলাম। যদিও আমি এবারই প্রথম সেতু হয়ে ঢাকা যাব। আমার বাড়ি বাঁধেরহাট হওয়াতে এ পথ হয়ে ঢাকা গেলে সময় ও টাকা বেশি অপচয় হয়। তাই আমার প্রথম পছন্দ নদীপথ। নদীপথে যাত্রার আলাদা একটা মজা আছে।

আমি চেষ্টা করছি, মেয়েটি আমার সঙ্গে আগে কথা বলুক। তাকে দেখে মনে হলো ভদ্র, শিক্ষিত এবং বেশ আধুনিক। তবে আমার সঙ্গে কথা বলছে না কেন? কোনোভাবে হিসেব মিলাতে পারলাম না।

আমি রাস্তার ওপাশে গিয়ে মোবাইল ফোন রিচার্জ করে নিলাম। সঙ্গে ফেসবুকের একটা প্যাকেজ। গাড়িতে বসে ফেসবুকিং করাটা কেউ কেউ বিরক্তিকর মনে করেন। আমার নিজের কাছে মনে হয় বইপড়া সবচেয়ে ভালো। এখন বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরা অবশ্য কানের ভেতর হেড-ফোন দিয়ে গান শোনে, হয়তো স্লো ইমোশনে প্রেম করে।

কেন জানি মেয়েটার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার খুব খায়েশ জাগলো। যদিও আমি সত্যিকার অর্থে তেমন মেয়ে ঘেঁষা স্বভাবের নই। তবে হ্যাঁ, সুন্দরী মেয়েদের প্রতি চরম দুর্বলতা কাজ করে, যদিও তা কখনো প্রকাশ করি না। এটা অবশ্য প্রকাশ করবার মতো নয়।

আমি পত্রিকা প্যান্টের পকেটে ভাঁজ করে রেখে আলগোছে একটা চেয়ারে টেনে বসে পড়লাম। মেয়েটি তখনো দাঁড়িয়ে- যদিও বসবার জন্য চেয়ার দেওয়া আছে। একটু উচ্চ স্বরে ম্যানেজার বলল,

-আপনারা দ্রুত রেডি হোন; গাড়ি চলে এসেছে।

যখন গাড়িতে উঠবো, ঠিক তখন মেয়েটি মৃদু হেসে আমার চোখে চোখ রাখলো। তবে বাক্য বিনিময় হল না। আমি হতাশ হয়ে সিটে গিয়ে বসলাম। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান। মেয়েটি সিট খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে আমার সামনে এসে বলল,

– প্লিজ! আপনি কী একটু ওপাশে বসবেন? জানালার পাশে বসলে আমার সুবিধে হয়।

মেয়েটার চেহারার ভেতর পরাজিত এক নাবিকের মুখ ভেসে উঠলো। তার কণ্ঠস্বর শুনে আমি মৌন সম্মতি দিলাম। চোখের ইশারায় বসতে বললাম। মনের ভেতর একটা খুশির বাজনা বেজে উঠলো। যাকে বলে, মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। মেয়েটি আমার শরীর ঘেঁষে বসল। আমি নিজে সংযত রাখতে সরে বসবার চেষ্টা করলাম। মেয়েটি তার ভ্যানিটি ব্যাগ দু’জনের মাঝখানে রাখলো। এতে একটা দূরত্ব তৈরি হল এবং সেটা অনেকটা নিরাপদ মনে হল আমার কাছে।

মেয়েটির শরীর থেকে তখনও বৃষ্টিভেজা সদ্যফোটা গোলাপের ঘ্রাণ বেরুচ্ছে। সেই ঘ্রাণ আমার নাকের ডগায় বারবার হানা দিচ্ছে। কথা বলবার লোভ সামাল না দিতে পেরে প্রশ্ন করব বলে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় মেয়েটি তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে হেডফোন বের করে মোবাইলে প্লাগইন করে কানের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো।

নিরুপায় হয়ে আমি একটি পর্যায়ে ফেসবুকিং শুরু করলাম। তরতাজা গোলাপের মতো অপরূপা সুন্দরী এক মেয়ে আমার পাশে বসে আছে, অথচ আমি তার সাথে কথা বলতে পারছি না! অকারণ এক বেদনাবোধে নিজের ভেতরে ছটফটানি শুরু হল।মোবাইল ফোন রেখে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাতে লাগলাম। পত্রিকায় হুবহু মেয়েটির ছবি দেখে আমি চমকে উঠলাম।

মেয়েটি তখন প্রায় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। আমি তার মুখের দিকে ভালোভাবে আরেকবার তাকালাম। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোন বেজে উঠল।

– রাসেল, বাজান তোর ব্যাগের ভেতর মুরগির গোশত আর চালের রুটি দিছি। পথে মনে করে খেয়ে নিস বাজান।

– মা, তুমি না বেশি বেশি করো সবকিছু! এসবের দরকার ছিল?

বলেই ফোন রেখে দিলাম। চাকুরির এই ইন্টারভিউটাই আমার শেষ ইন্টারভিউ। চাকরি হলে হবে, না হলে না হবে। গ্রামে একটা কিছু করার চেষ্টা করব। তাছাড়া মাকে একা রেখে শহরে চাকুরি করতে আমার মন সায় দেবে না। মায়ের আবদার চাকরি হলেই ঘরে বউ আনতে হবে। ‘প্রেম করতে গেলে মেয়ের অভাব নেই, সংসার করতে গেলেই মেয়ের আকাল।’

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে পত্রিকার পৃষ্ঠা আবার উল্টালাম। ছবিটির দিকে তাকিয়ে মিলাতে চেষ্টা করলাম। হ্যাঁ, সত্যিই মিলে গেল। গাড়ি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলল। পত্রিকা ভাঁজ করে আমার ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে রাখলাম। গাড়ি সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজে এসে থামল। ততক্ষণে মেয়েটি আমার কাঁধের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তার কানের কাছে ফিসফাস করে বলতে লাগলাম,

– ফুড ভিলেজ চলে এসেছি। নেমে ফ্রেশ হয়ে নিন। তারপর কফিতে চুমুক দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটু গল্প করা যাবে।

-সরি, ধন্যবাদ। আমি গাড়ি থেকে নামব না। আপনি যেতে পারেন।

আবারও আশাহত হলাম। কোনোভাবেই মেয়েটি পাত্তা দিচ্ছে না। সুন্দরী মেয়েরা অহংকারী হয়, সে জানি- তবে তার চোখ তো তা বলছে না! চেহারায় বেশ মায়া আছে, তবে তাকে বেশ কৌশলীও মনে হল। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ভেতরে ঢুকে ওয়াশ রুম চলে গেলাম। বের হয়ে এসে একটা সিগারেট ধরিয়ে টান দিতেই গাড়ির জানালার গ্লাসের দিকে নজর চলে গেল। গাড়ি নম্বর মিলিয়ে দেখলাম। ঠিকই আছে। কিন্তু মেয়েটিকে তো নজরে পড়ছে না! ভেতরটা নড়ে উঠল। গাড়ির সুপারভাইজার দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। তারপর ড্রাইভার উঠেলেন। তিনি সিটে গিয়েই গাড়ি স্টার্ট করলেন।

আমি এক টান বাকি থাকতেই সিগারেট ফেলে দিয়ে গাড়িতে উঠলাম। আমার পাশে বসা মেয়েটি নেই। আমার পাশের সিটটি ফাঁকা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। সুপারভাইজারকে প্রশ্ন করলাম,

– মেয়েটি কোথায়?’

– ক্যান স্যার? উনিতো নেমে গেছেন।

– উনি কী ঢাকার যাত্রী ছিলেন না?

– যাত্রী তো ঢাকার ছিল, তবে তার বিশেষ কাজে নেমে গেছেন।

খ.

মনের ভেতর হঠাৎ অপহরণ নামক শব্দটা ঘুরপাক খেতে লাগল। রাস্তায় জ্যাম নেই। গাড়ি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই করোনাকালীন সময়ে আমাদের মতো মানুষের হয়েছে যত জ্বালা! এক সিট পরপর বসতে হবে। ভাড়া আবার ডবল। আহারে জীবন! সবকিছুই পড়ে থাকবে, তবুও টাকার প্রতি কী এক অলৌকিক মায়া! এ এক অদ্ভুত ব্যাপার!

আমি কোনো কথা না বাড়িয়ে সিটে বসলাম। পত্রিকা বের করে তার ছবির নিচের লেখা পড়তে শুরু করলাম। ‘সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশের এএসপি জিন্নাত জাহান জাহিকে গোয়েন্দা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।’ মনের ভেতর থেকে অপহরণ নামক ভয়টা উধাও হয়ে গেল। মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠল।

আমি গাবতলী নেমে আমার বন্ধু রানাকে ফোন দিচ্ছি। কল রিসিভ করছে না। শহরের মানুষ এখন গভীর রাত জেগে ফোনে মেয়েদের সঙ্গে আড্ডা মারে আর দুপুর পর্যন্ত ঘুমায়। ফোন না ধরার অপরাধে সাজা মওকুফের সহজ উপায় হল ‘স্যরি বন্ধু, সত্যিই টের পাইনি। চল, কী খাবি? যদিও প্রিয় মানুষের এমন আবেগী কথায় রাগ অভিমান সত্যিই দূর হয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে আমি হাঁটতে শুরু করলাম। যতদূর পর্যন্ত হাঁটা যায়, হাঁটবো।

গ.

শ্যামলী মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আলোচিত এক মডেল কন্যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য আমি সেই মডেলকে কখনো টিভিতে দেখিনি। কেউ কেউ বাজে বকছে। ব্যঙ্গ করছে। আমার দিকে একজন তাকিয়ে বলে উঠল, ‘খেত না কি? কেমন হা করে তাকিয়ে আছে!’ আমি খানিকটা লজ্জাই পেলাম। শহরে আজকাল নকল মানুষের ভিড়, নকল পণ্যেরও ভিড়। মানুষ অনেক কিছু জেনেই নকল গ্রহণ করছে। অল্প দামে নিজের ক্ষতিটা বুঝতে পারছে না। নিজের প্রতি মানুষের এভাবে মায়া কমে যাচ্ছে কেন?

এলিট শ্রেণির মানুষ একটা সম্পর্ককে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। যাকে বলে আত্মীয়তা। এই শহরে আমার অনেক আত্মীয়ই আছে। তবুও করোনারকালের এই চরম সময়ে উঠতে হবে বন্ধু রানার বাসায়। কারণ একটাই, আমার থেকে যদি করোনা হয়। অথচ তারা রিকসায় বসে ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবহেলা এগুলো। মানুষের প্রতি মানুষের চরম অবহেলা। এর কোনো বিচারও নেই। কেউ অপরাধ হিসেবে গ্রহণও করছে না।

রানার জন্য দুইঘণ্টা তের মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা। এই অপেক্ষার ফাঁকে তিনটা সিগারেট, আর দুটি পান শেষ হয়েছে। শহরে একদম একা দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ সন্দেহ করে।

বৃষ্টি শুরু হবে। এমন সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে মনেহল রানা আমাকে কল দিয়েছে। গাড়ি চলাচলের শব্দে ফোনের রিংটোন বুঝতে পারিনি। শহরে শব্দের দূষণ কতমাত্রা কেউ ঠিক করে বলতে পারবে না। আইন থাকলেও এর প্রয়োগ কবে হবে- এসব ভাবতে ভাবতেই রানা এসে আমার কাঁধে হাত রাখল। যেমনটা ভেবেছিলাম ঠিক তাই,

– সরি বন্ধু।

– ভাব দেখাতে হবে না। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে। আগে কিছু খাওয়া।

বাইক নিয়ে রানা ওর রুমে আমাকে রেখে বলল,

– বন্ধু দশ মিনিটের একটা কাজ আছে। মিন্টু রোডে যাব আর আসব।

– মিন্টু রোডে কেন?

– আমার অফিস মিন্টু রোডে জানিস না ?

– হুম জানি, ভুলে গেছি।

গেটে ঢুকতেই রিংটোন বেজে উঠল রানার ফোনে।

– হ্যালো স্যার, মেয়েটিকে ট্যাগ করেছিলাম। সিরাজগঞ্জ রোড থেকে নেমে গেছে। ফোন সুইচ অফ করে। আবার ফোন চালু হয়েছে। সাভার চলে আসছে। আমরা কী করব?

– আমি অফিসে ঢুকে বলছি। ট্যাগ যেন থাকে। আর হ্যাঁ, নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে জানাবেন। আমি অন্য টিমকে দায়িত্ব দেবো।

– জি স্যার।

‘ওকে’ বলে রানা ফোন রেখে দিলো। ডিবিতে যেমন কাজ করবার সুযোগ আছে, তেমনি রিস্কও আছে। মানুষ সত্যিই তার কাজেই বেঁচে থাকে। আর তাই হয়তো কাজ করাতেই তার আনন্দ।

– কী রে? এখনো ঘুমিয়ে আছিস? চল, আজ রাতে তোকে নিয়ে বাইরে খাবো।

– তুই যে দশ মিনিটের কথা বলে গেলি, এই কি তোর দশ মিনিট?

– বন্ধু ডিবির চাকরি। বসে থাকাটাও কাজ। সে তুই বুঝবি না। চল, যেতে যেতে গল্প করি। কি যেন বলতে চেয়ে থেমে গেলি?

হুম, তোদের এক অফিসারের সঙ্গেই এলাম। যদিও মাঝপথে উধাও। তোদের ডিবির লোক বলে কথা।

– তুই কার কথা বলছিস?

– কেন? জিন্নাত জাহান জাহি! পত্রিকায় আজ তার ছবি প্রকাশ হয়েছে।

– কী বলছিস? জাহি ম্যাডাম তো আমার সঙ্গে অফিস করল?

– তোর মাথা এত অল্প বয়সে খারাপ হবে, তা তো কখনো ভাবিনি!

– বিশ্বাস করছিস না যখন, তখন রুমে গিয়ে তোকে দেখাবো। পত্রিকাটা আমার সঙ্গেই আছে।

– তোকে রুমে গিয়ে দেখাতে হবে না। পত্রিকার নাম বল। অনলাইন থেকে দেখে নিই, কে সত্যি বলছে।

– ‘ঠিক আছে’ বলে রানা মোবাইল ফোন বের করে ফোনে ডাটা অন করল। সত্যিই তো তাই! আজ ম্যাডাম প্রমোশন পেয়ে আমার সঙ্গে নতুন অফিস করল। কিন্তু ছবিতে যাকে দেখছি, সে তো জাহি ম্যাম না !’

আমার কথা শুনে রাসেলের চোখ কপালে উঠে গেল। এসব কী তাহলে? মেয়েটি কে? একটা জাতীয় পত্রিকা এমন একটা ভুল সংবাদ প্রকাশ করল!

মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্রিনশট নিয়ে নিজেদের গোপনীয় একটা গ্রুপে ছবিটি দিল।

– রাসেল চল খেয়ে নিই, রাত হয়ে এলো।

– হুম, তুই নিজেই তো ব্যস্ত হয়ে পড়ছিস।

– তা ঠিক। একটা আসামির ধরতে চেষ্টা করছি। মেয়েটি খুব চালাক। এখনো ছবি পাইনি অপরাধীর। তবে পেয়ে যাব।

– কেমন অপরাধী সে? তাও একজন মেয়ে মানুষ!

– অপরাধী কখনো ছেলেমেয়ে দেখে হয় না। অপরাধী অপরাধ কী করেছে, তার উপর নির্ভর করে।

অনেক কথা হল, খাবার শুরু করা যাক। সবই তোর পছন্দের খাবার। হ্যাঁ, তা ঠিক। ভাবির সঙ্গে সম্পর্ক এমন হল কেন? যেহেতু একটা বাচ্চা আছে, সবকিছু ঠিক করে নে না। গ্রামের মানুষ এগুলো ভালো চোখে দেখে না। বন্ধু, পুরুষ মানুষ মনে হয় সব জায়গায় সফল হতে পারে না। কর্মজীবনে সফল হলেও বিবাহিত জীবন বা পৈত্রিক জীবনের ব্যর্থতা তাকে কোনো না কোনোভাবে পেয়ে বসে। মানুষ সফল হয়, পরিপূর্ণ হয় না। খাওয়া শেষ না হতেই রানার ফোন বেজে উঠল।

-হ্যালো, জি স্যার।

– আপনি দ্রুত টিম নিয়ে চলে আসুন। আসামি ধরতে পেরেছে। শুনেছি গুলি লেগেছে। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

– মিডিয়াকে কোনোভাবেই এখন জানানো যাবে না। মেয়েটি আমাদের ডিবির আন্ডারে আছে।

-জি স্যার।

– রানা দ্রুত খাবার শেষ করে বের হল। আমি সামনে এগিয়ে গিয়ে একটা টঙ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট জ্বালিয়ে টানতে শুরু করলাম।

পাশ থেকে ক’জন সাদা পোশাকধারী লোক একটা মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছে। ঠিক আমার সামনে দিয়েই যাচ্ছে। মেয়েটি রক্তে ভিজে উঠেছে। তার চোখ দুটো আমাকে যাত্রাপথের সেই গাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল। তখন বৃষ্টি চলছিল। যতক্ষণ বৃষ্টি চললো ততক্ষণই আমি বৃষ্টিতে ভিজেছি আর গোলাপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষকাঁটার কথা ভেবেছি। কোনো মানুষের প্রতি আমার আর বিশ্বাস নেই।

আরও পড়ুন শফিক নহোরের গল্প-
বিষফুল
নীরুর মা
তিলতাল

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

কাঠগোলাপ ও প্রেম

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!