নতজানু-যুবক
আবু জাফর খান,  কবিতা,  সাহিত্য

নতজানু যুবক, মরুমন

নতজানু যুবক

আবু জাফর খান

 

পাখির প্রার্থনায় নতজানু যুবক
অবশেষে জেনেছে মানুষ একা!
ক্রন্দিত সূর্যাস্তে তাই ডাহুক হয়ে যায়
যুবকের প্রাণ;
যূপকাষ্ঠে জ্বলন্ত অগ্নির পাশে দাঁড়িয়ে
একদিন তিমিরের বেদিতে নিশিকন্যার রোদণ শোনে!
ফিরে যায় বিবর্ণ ঘাসের ঘরে ভূমধ্য শস্য মাড়িয়ে
মৃত্যু-আঁধারের ভেতর দিয়ে!

যুবকের ভাঙাবুক জানে
পৃথিবীর বুকজোড়া যে ফাটল,
সে পথে রাত্রির ক্রন্দনধ্বনি পেরিয়ে
আলো আসবে!
সে আলো দুঃখের কাছে ফিরে যাবে
ফের সাদা মেঘের সম্মুখে।
কেননা যুবক যখন বলতে প্রস্তুত,
তার কাছে দেবার মতো প্রেম আর নেই কিছুই!
বহুকাল ধরে সে তরঙ্গের অনেক নিচে নেমে গিয়ে বুঝেছে,
কেউই আসলে আজন্ম প্রেমিক কিংবা প্রণয়িনী নয়!

যুবক তাই ক্ষয়া চাঁদের মতো
নিশীথের হিমবাহুর কোলে ডুবে যেতে যেতে
তুর পাহাড়ের পাখির ঠোঁট হতে খসে পড়া শব্দ থেকে বোঝে,
কোনো মানে নেই এইসব মরীচিকা ভ্রমণের!
মগডাল ছুঁয়ে আসা হিম বাতাস ঠিক
আবার ঘুরে যায় পাথরের দিকে!

আরও পড়ুন আবু জাফর খানের কবিতা-
স্বপ্নবাড়ি
প্রেমের প্রয়াণ

 

মরুমন

আদতে মনসুনই কাষ্ঠপীড়িত
বৃষ্টি এলে আমি সপ্রাণ সাগর হই
আশ্বিনে মেঘের রেখা ধরে এগোই
কিংবা ভাদ্দরে বনজ ফুলের গন্ধ নেবো বলে—
পশ্চাদমুখী হই, পেছনে পা বাড়াই!

পোড়ো মরুমন অর্কিড ফুটিয়ে
কতশত স্মৃতি উসকে দেয় লুণ্ঠিত কামনার!

মনসুনই বস্তুত তৃষ্ণাপীড়িত
আধমরা শেকড়কে ঘাটিয়ে আয়োজন করে—
মৌন ফিউনারেল,
স্মৃতিকাতর করে অকাল বর্ষার জল!

আসছে মাঘে কোকিল ডাকে যদি
মাঘ-নিশীথের কোকিল
আমি বরং উষ্ণ হবো, ভুলোমন তুষারে ঢাকা পড়ুক
পাহাড়িয়া ওকসমূহ, পৃথিবীর সকল চরাচর
এ জীবন কেটে যাক অরস কন্দ চিবিয়ে!

ধ্রুপদি বসন্ত সে এখন দূর-অস্ত
বরং এই খর-গ্রীষ্ম চমক এনেছে—
মনকন্দরে এক পশলা বৃষ্টির জল ছিটিয়ে!

ঘরবন্দি আমি আবার একদিন
সমুদ্রে যাব বালুবেলার ঘ্রাণ নিতে,
সেদিন না হয় তুমিও থেকো তরঙ্গের ভাঙা বর্তনীতে।

আরও পড়ুন কবিতা-
লিপিকার আমিই তোমার
এসেছি স্বাধীনতা সাথে করে
দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি
প্রকৃতিতে হবো লীন

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

নতজানু যুবক

Facebook Comments Box

কবি ও কথাশিল্পী আবু জাফর খান নিবিড় অন্তর অনুভবে প্রত্যহ ঘটে চলা নানান ঘটনা, জীবনের গতি প্রকৃতি, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, ব্যক্তিক দহনের সামষ্টিক যন্ত্রণা তুলে আনেন নান্দনিক উপলব্ধির নিপুণ উপস্থাপনায়। তাঁর লেখায় ধ্বনিত হয় বিবেক কথনের অকৃত্রিম প্রতিভাষা। প্রকাশনা: কাব্যগ্রন্থ-পাথর সিঁড়িতে সূর্যাস্ত বাসনা, অনির্বেয় আকাঙ্ক্ষায় পুড়ি, যে আগুনে মন পোড়ে, যূপকাঠে যুবক, একটি জিজ্ঞাসাচিহ্নের ভেতর, সোনালী ধানফুল, রাতভর শিমুল ফোটে, বীজঠোঁটে রক্তদ্রোণ ফুল, স্যন্দিত বরফের কান্না, প্রত্নপাথর মায়া; গল্পগ্রন্থ-মাধবী নিশীথিনী, পথে পথে রক্ত জবা, উপন্যাস-মেখলায় ম্যাগনোলিয়ার মুখ, জ্যোৎস্নায় ফুল ফোটার শব্দ, কুমারীর অনন্তবাসনা, জ্যোৎস্নাবাসর, মেঘের বসন্তদিন, রূপোলী হাওয়ার রাত, একাত্তরের ভোর, তৃতীয় ছায়া। তিনি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

error: Content is protected !!