জীবনের-উপহাস-৩
গল্প,  রাতুল হাসান জয় (গল্প),  সাহিত্য

জীবনের উপহাস ১

জীবনের উপহাস ১

রাতুল হাসান জয়

 

পড়ার টেবিলে বসে রাজ্যের মন খারাপ নিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করলো আর্শি।

~ মাস্টারদা আপনি বাবাকে বলেছেন আর পড়াতে আসবেন না। কেন?

কোন কথার উত্তর না দিয়ে বইটা বের করে চূড়ান্ত হিসাব করতে দিলাম। সে চুপচাপ বসে রইলো। তার হাত কাঁপছে। বুকের ভিতর অনেক না বলা কথা জমে আছে যার জন্য, তার সামনে থেকেও বলতে না পারলে এমন হাত পা কাঁপে। আর্শি চোখের জল লুকাচ্ছে। নাক টানছে বারবার। সে জানে আজকেই শেষ আজকের পর আর দেখা হবে না কখনো।
~ মাস্টারদা আমায় নিয়ে পালাবেন? যেমন রাখবেন তেমন থাকবো শুধু পাশে রাখবেন আজীবন।
~ আর্শি, পড়ায় মন দাও। কথা বাড়াবে যত আমি তত দ্রতই উঠে চলে যাবো।

বাকিটা সময় একটা শব্দও করেনি সে। ফুফিয়ে কাঁদছে শুধু। আসার সময় ব্যাগে একটা কাগজ রেখে দিয়েছে। তার বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম।

আগের টিউশনিটা একই কারণে ছাড়তে হয়েছে।
কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা একটু বেশিই আবেগী হয়। এদের সাথে কেউ মিষ্টি করে কথা বললেও তারা প্রেম মনে করে নেয়। একটু বেশি সময় যাকে কাছে পায় তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

 

আরও পড়ুন গল্প সোনালী সকাল

 

শহরের আলো ঝলমলে রাত। ওভারব্রিজ এ দাঁড়িয়ে কাগজটা খুললাম…

মাস্টারদা,
একদিন আপনাকে বলবো ভূত আর ভবিষ্যৎ সবটাই প্রেমিকার মতো। আমি আরো একশো চিঠি লিখবো আপনাকে, লিখবো তদ্দিন ধরে যদ্দিন না কঠিন আপনি ভাঙছেন। জানি ভিতরে ভিতরে শুধুই ভাঙেননি একেবারে গলে গেছেন। আপনার করানো অংকের চেয়েও খুব দ্রুত আমি আপনার চোখের আড়াল বুঝতে পারি।
অথচ আপনি…

থাক আর কথা বাড়াবো না মাস্টারদা। চলে যাবেন যান। এতটুকু জেনে যান মেয়েদের মনে একবার যে মানুষটা বসে যায়। সে থেকে যায়। দেখা না হতে হতে হয়তো চেহারা অস্পষ্ট হয়ে যায়। তবু হঠাৎ তার নাম শুনলে ভিতরে ভিতরে জলোচ্ছ্বাস হয়ে যায়।
ইতি
আপনার কেউ না

চিঠিটা পকেটে ভাঁজ করে রেখে হাঁটা দিলাম। অনেক রাত, আমি এখনও বাসায় যাচ্ছি না, সম্ভবত বাসায় যেতে চাইছি না আমি। নিয়ন বাতির আলোয় রাতের শহর খারাপ লাগে না। এই রাতে মানুষ আর কুকুর এক ছাদের নিচে, একই বিছানায় ঘুমায় হর্ণের আওয়াজে। মানুষগুলো ঘুমিয়ে গেলেও ফুটপাতে শুয়ে থাকা কুকুর তাকিয়ে দেখছে আমার হেটে চলা। এরা আমার বাসায় ফেরার নিত্যদিনের দর্শনার্থী। হয়তোবা এরা আমার পায়চারীর মানে বুঝতে পারছে, কিংবা বুঝতে চাইছে।

ঘরে চালের অভাব, ভাইয়ের স্কুল ফি বাকি, ঘরভাড়া বাকি। একজোড়া জুতাও কেনা দরকার। সামনেই ঈদ একটা শাড়ি কেনা দরকার মায়ের জন্য। নতুন একটা টিউশনি খুঁজতে হবে। তাছাড়া ক’দিন বাদেই আসছে বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। মা সেদিন কিছু মানুষ খাওয়ান। এবার আর সেটা হচ্ছে না বোধহয়। হাটতে হাটতে হঠাৎ মনে পড়লো, গতকাল আমজাদ চাচার কাছ থেকে চাকরির খবর পত্রিকাটা নেওয়া হয়নি।

 

আরও পড়ুন

জীবনের উপহাস ২

জীবনের উপহাস ৩

 

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!